আমরা প্রতিনিয়ত ফিল্ম পলিটিক্সের শিকার হচ্ছি -জামাল

By: অরণ্য শোয়েব 2019-02-12 00:05:08 বাংলাদেশ

গল্পকে শ্বাসরুদ্ধকরভাবে এগিয়ে নেয়াসহ সিনেমায় গতি এনে দেয় একজন খল-অভিনেতা। দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্য সিনেমা তৈরিতে খলনায়কের ভূমিকা অনেক। তাই নায়কের চেয়ে খলনায়কের গুরুত্ব মোটেও কম নয়।

খলনায়কের কাজ হচ্ছে গল্পে ব্যঞ্জনা তৈরি করা। অভিনয়ের প্রয়োজনে এদের চলচ্চিত্রের পর্দায় বিচিত্র রূপ ধারণের পাশাপাশি কঠিন কঠিন কাজ করতে হয়। গোলাম মুস্তাফা, হুমায়ূন ফরিদি, রাজিব, এটিএম শামসুজ্জামান, আহমেদ শরীফ প্রমুখ খল অভিনেতারা পর্দা কাঁপিয়েছেন। পর্দায় তাদের উপস্থিতিই যেন দর্শককে কখনো চিন্তিত করে তুলতো আবার কখনো আশা ভঙ্গের কারণ হয়ে দাঁড়াতো। ঢাকাই চলচ্চিত্রে এখন তা সোনালী অতীত।

বর্তমানে চলচ্চিত্রে খলনায়কের সংকট চলছে। সোনালী যুগের পর্দা কাঁপানো খলনায়কদের অনেকেই এখন চলচ্চিত্র থেকে দূরে রয়েছেন। এদিকে, নতুন করে যোগ্য খলনায়কের আবির্ভাব ঘটছে না। তরুণ প্রজন্মের গুটিকয়েক খল-অভিনেতা এবং আগের দুই চার জন চলচ্চিত্রে অভিনয় করে যাচ্ছেন। পুরোনদের তাদের তালিকায় রয়েছেন সোনালী প্রজন্মের খল অভিনেতা জামাল।

তিনি ১৯৯৮  সালে শহিদুল ইসলাম খোকন পরিচালিত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র  'যোদ্ধা  ’ সিনেমায় প্রথম অভিনয়ের সুযোগ পান। সিনেমাটিতে সহকারী খল-অভিনেতার অন্যতম ছিলেন তিনি।

এরপর প্রায় দুইশত ছবিতে ভিলেন সহযোগী ভিলেনের চরিত্র করেছেন | আগের দিনের শক্তিমান সকল নায়কদের সাথে কাজ করছেন জামাল | রাজ্জাক , আলমগীর , সোহেল রানা ,ইলিয়াছ কাঞ্চন ,জাভেদ সহ নতুন প্রজন্মের নায়কদের সাথেও কাজ করেছেন | 

বর্তমানে জামাল পাটোয়ারী তিনিটি সিনেমা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে . এর মধ্যে অন্ধকার জগৎ ,আমার মা বেহেস্ত , তোলপাড় | 
জামালের উলেখ্য ছবিগুলোর মধ্যে 'শত্রু শত্রু খেলা ' নগর মাস্তান 'মাস্তান ও পুলিশ 'অগ্নিশিখা 'আমি বাঁচতে চাই ' নষ্ট মুন্না ' নাম্বার ওয়ান শাকিব খান অন্যতম |

জামালের সাথে কথা হলে বলেন , এখন তো আর আগের মতো ছবি হচ্ছে না এবং সোনালী দিনের নির্মাতারাও নেই | বর্তমানে যে সব নির্মাতারা আছেন কাজ করছেন , যাদের ভিলেন নির্বাচন করছে তারা তো সংঘবদ্ধ একটি দল, ছবি করলেই তাদের নিচ্ছে আমাদের নিচ্ছে না | যেমন ধরেন শাকিব খানের একটি ছবি হলেই সেখানে আগে থাকতেই ফিট করে দেওয়া হয় খল অভিনেতাদের | অনেক নির্মাতা ইচ্ছা করেই এই কাজগুলো করেন | নাম বললে ফেসে যাবে অনেক কাছের মানুষ । আমাদের গুরুত্ব সেখানে দেয়না বলেই চলে , আমরা কাজ করতেই চাই ,  এতো গ্রূপিং আর পলিটিকস থাকার জন্য সিনেমা পাড়ায় অনেকেই কাজ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে | এভাবে চলতে থাকলে নতুন পুরোনো যারা আছে তারা তো বসে পরবেই এবং নতুনদেরও সুযোগ হবে না বলে মনে করছি | 

গ্রূপিং বন্ধ করে সবাই মিলে সিনেমার জন্য কিছু করা উচিত , এই শিল্পকে বাঁচাতে হলে একজন- দুজন না সবাই মিলে কাজ করতে হবে |